৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Advertisement

জামিরাপাড়ায় সরস্বতী পুজো

সৌমি মন্ডল :জেলার জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকার জামিরাপাড়া গ্রামে এ বছর সরস্বতী পুজোর ১২৫ তম বর্ষ। এই বর্ষপূর্তি উৎসব এর মাতৃ প্রতিমা ও পাঁচদিনের পুজো ও মেলা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা রায়পুর বিধানসভার বিধায়ক মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ধীরেন্দ্র নাথ ঘোষ কল্যাণ প্রসাদ মিশ্র সহ বিশিষ্ট মানুষজন। গ্রামের পুরানো পুজো প্রসঙ্গেগ্রামের প্রবীন ব্যক্তি সন্তোষ মন্ডল, গোপাল মাইতি, বিধান মাইতিরা জানান তাদের পুর্বাপুরুষ ঈশান মাইতি,মহেন্দ্রলাল মন্ডল,গিরীশ মাইতি, গোকুল মাইতিদের হাত ধরে এই পুজোর শুভ সূচনা হয়েছিল।
৮৬ বছর বয়সী সন্তোষ মন্ডল জানান, বিদ্যা আর ধন-সম্পদের সহাবস্হানে গ্রাম যাতে বিকশিত হয় সেটাই পুজোর অন্যতম উদ্দেশ্য। অবসর প্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক ৮৯ বছর বয়সী শচীনন্দন মজুমদার বলেন, জামিরা পাড়া গ্রামের পার্শ্ববর্তীএলাকায় কোনো পুজো ছিল না । তাই গ্রামের পূর্বপুরুষেরা সরস্বতী পুজোর আয়োজন করেন।
এই গ্রামের সরস্বতী পুজোর অভিনবত্বে মোড়া।এখানে চারদিন ধরে বাক্ দেবীর পূজার্চনা চলে। প্রতিমার কাঠামো বিশেষ আদলে তৈরি হয়। সরস্বতীর সঙ্গে দেবী লক্ষ্মী, নারায়ণ আর দাস দাসীরও পূজা হয়। পঞ্চমী,ষষ্ঠী,সপ্তমীতে পূজাপাঠ, নামসংকর্তীন, সন্ধ্যারতি, প্রসাদ বিতরণ চলে। পঞ্চমীর দিনে প্রত্যেকের বাড়ি থেকে লক্ষীর ঘট প্রতিমার কাছে রাখা হয়। অষ্টমীর দিন ঘট বিসর্জনের পর লক্ষীর ঘট প্রত্যেকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়।

Advertisement

পূজার্চনার সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও পরিবেশিত। ৮৬ বছর বয়সী সন্তোষ মন্ডল বলেন তার যখন বার -তের বছর বয়স তখন তিনি গ্রামের অনুষ্ঠান গান করতেন, যাত্রাপালায় অভিনয় করতেন। গোপালবাবুরা জানান আগে গ্রামের মানুষেরা গ্রামের যাত্রাপালায় অভিনয় করতেন। পার্শ্ববর্তী সারেশকোল, জামবনী গ্রামের বিজয় রায় যামিনী রায়েরা দীর্ঘদিন যাত্রাপালা গান বাজনার মধ্য দিয়ে গ্রামের সুন্দর সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে বিশেষ সাহায্য করেছেন। এমনকি গ্রামের মেয়েরাও সেই সময় যাত্রাপালায় অভিনয় করতেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুজায় নানা ধরনের বদল এসেছে। সরস্বতীর জন্য একটি সুন্দর মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে।২০০০ সাল থেকে গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে একটি সুন্দর সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলেছেন পুজো উদ্যেক্তারা। চারদিন ধরে ভিন্ন স্বাদের অনুষ্ঠান থাকে। চার দিন ধরা চলা পুজোতে যাবতীয় ব্যয়ভার গ্রামের মানুষেরা দীর্ঘদিন আনন্দের সঙ্গে বয়ে যাচ্ছেন।
পুজো কমিটির সভাপতি অঞ্জন মাইতি বলেনএবছর ১২৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকার বাজেট করে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। জনপ্রিয় কাকলি-অনল চক্রবর্তী অভিনীত যাত্রাপালার পাশাপাশি জি বাংলা চ্যাম্পিয়ান এবং ইন্ডিয়ান আইডলের ফাইনালিস্ট সৌম্য চক্রবর্তীর অনুষ্ঠানও রয়েছে।

Advertisement