৯ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
Advertisement

তিন কন্যার উদ্যোগে রক্তদান শিবির

সৌমি মন্ডল :জঙ্গলমহলের রায়পুর ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকা সহজপুর গ্রামের মানবাধিকারকর্মী সমাজসেবী পূর্ণিমা দত্তর প্রয়ানে তার পরিবারের পক্ষ থেকে তিন কন্যার উদ্যোগে রক্তদান শিবির, বস্ত্রদান ও চারা গাছ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো সহজপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। ৯ জন মহিলা সহ ৭১ জন রক্ত দান করেন ।প্রায় ৩০০ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষের হাতে শীতবস্ত্র ও কাপড় তুলে দেন পরিবারের পক্ষ থেকে তিনকন্যা জামাতা ও পূর্ণিমা দেবীর স্বামী কল্পতরু দত্ত। তার বড় মেয়ে সীমা দত্ত বলেন মায়ের অসমাপ্ত কাজ আমরা সমাপ্ত করতে চাই। মা মরণোত্তর দেহ দান করেছেন। মা একজন সমাজকর্মী ছিলেন দীর্ঘদিন এলাকায় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করেছেন। বাল্যবিবাহ ,পণপ্রথা, ডাইনি প্রথা সহ নানান কাজে সমাজের কাছে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে ছিলেন এগুলো অন্যায় তার বিনিময়ে তৎকালীন সময়ে অনেক লাঞ্ছনা গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে এমনকি আমাদের পরিবারকে একঘরে করে রাখা হয়েছিল সেই সময়ে। সেই সমস্ত বাধা বিপত্তি কাটিয়ে মা একজন সমাজকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমাদের তিনি এই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছিলেন আর পারলে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন তার এই দেখানো পথে আমরা আমাদের সীমাবদ্ধ ক্ষমতায় আজকের এই ক্ষুদ্র অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি ।উল্লেখ্য পূর্ণিমা দত্ত গত ৮ ডিসেম্বর মারা যান তারপর তার দেহ কলকাতা পিজি হাসপাতালের দান করা হয় । আজকের রক্তদান শিবিরে রক্তদাতাদের একটি করে মূল্যবান চারা গাছ উপহার দেওয়া হয় বলেও পূর্ণিমা দত্তর মেয়ে সোমা দত্ত জানান।আজকের এই অনুষ্ঠানে প্রত্যন্ত এলাকা সহজপুর গ্রামে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো ।রক্তদানেই প্রমাণ করে দিয়েছে পূর্ণিমা দত্ত কত মানুষের ভালোবাসার প্রতীক ছিলেন। রক্ত সংগ্রহ করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক। খুশি ব্লাড ব্যাংকের কর্মীরাও তারা বলেন প্রত্যন্ত গ্রামে এত মানুষের রক্ত দানে আগ্রহ দেখে আমরা অভিভূত।

Advertisement